
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা এলাকায় রাতের আঁধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ কেটে ১৫টি পাইপ (নাসি) বসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্কেভেটর ও ১৫টি নাসি জব্দ করা হয়েছে।
রোববার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের খবর পেয়ে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী গ্রাম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং স্কেভেটর ও পাইপগুলো জব্দ করেন।
চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বেড়িবাঁধ কাটার কাজ বন্ধ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জব্দ করা মালামাল চেয়ারম্যানের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং একজন গ্রাম পুলিশ পাহারায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শরৎঘোনা এলাকার নুর মুহাম্মদ, মনু ও জহিরুল ইসলাম এ কাজে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে লবণ মাঠ ও চিংড়িঘেরে পানি সরবরাহের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের দাবি, ওই স্থানে আগে থেকেই নাসি ছিল এবং নতুন করে স্থাপনের জন্য তারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকেও অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
পাউবো সূত্র জানিয়েছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এভাবে বেড়িবাঁধ কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয় না। নতুন স্লুইসগেট বা পানি নিষ্কাশন পথ নির্মাণের জন্য কারিগরি সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং পাউবোর মহাপরিচালকের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন ছাড়া রাতের আঁধারে বেড়িবাঁধ কাটা বেআইনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, এটি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ। বাঁধ কেটে নাসি বসানো হলে এলাকার নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাঁরা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে এবং জব্দ করা মালামাল চেয়ারম্যানের হেফাজতে রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।